প্রধান
শিক্ষকের বাণী
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এটি শুধু উন্নয়নের পূর্বশর্তই নয়,
একটি জাতির আত্মপরিচয়, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান হাতিয়ার। সঠিক শিক্ষা
একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ও সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে
সহায়তা করে। মানবজীবনে প্রতিভা ও শ্রম—উভয়
গুণই অপরিহার্য; তবে পরিশ্রম ও সাধনা ছাড়া প্রতিভা বিকশিত হয় না। ছাত্রজীবন হলো
আত্মগঠন ও অধ্যবসায়ের শ্রেষ্ঠ সময়। নিয়ম-শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার বাইরে জ্ঞানার্জন
কখনোই ফলপ্রসূ হতে পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের প্রধান দায়িত্ব হলো নিষ্ঠার সঙ্গে
অধ্যয়ন ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা।
মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের
চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধে বিশ্বাসী, দেশপ্রেমিক, মানবিক ও
নৈতিকতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য। বর্তমান শিক্ষাক্রম
অনুসন্ধিৎসা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ, বিজ্ঞানমনস্ক ও কর্মমুখী মানস
গঠন, প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা অর্জন, মানবাধিকার সচেতনতা এবং সব ধরনের
বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বায়নের চাহিদা
অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
গুণগত শিক্ষা ও
শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ—
শিক্ষার্থীকে করবে সমৃদ্ধ, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
স্নেহের শিক্ষার্থী, সম্মানিত অভিভাবক
ও প্রিয় সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ—আপনাদের
সবাইকে ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ভালোবাসা জানাই।
নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ
বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ—দেশের
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৩৮
খ্রিষ্টাব্দে ‘কুইন মেরী গার্লস স্কুল’ নামে যাত্রা শুরু করে ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠান নারী শিক্ষা
বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এই বিদ্যালয় শুধু পুঁথিগত জ্ঞান ও সনদের
মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে
নেতৃত্বগুণ, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজের বিভিন্ন
গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন—যা আমাদের জন্য গর্বের।
স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ,
মনে রাখবে—নিয়মিত অধ্যবসায় ও আন্তরিক প্রচেষ্টা
একজন দুর্বল শিক্ষার্থীকেও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পারে। আধুনিক ও
প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। কারিকুলাম ও
শিক্ষাপদ্ধতির আলোকে সঠিকভাবে পাঠ গ্রহণ ও অনুশীলনের জন্য বিদ্যালয়ের কোনো বিকল্প
নেই। আমাদের শিক্ষকবৃন্দ প্রশিক্ষিত, অভিজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব। নিয়মিত
বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে প্রশ্ন করতে শেখো, কৌতূহলী হও, শেখার আনন্দ আবিষ্কার করো।
মনে রাখবে—শিক্ষা কোনো
করুণা নয়, এটি তোমাদের অধিকার।
সম্মানিত অভিভাবকগণ,
আপনারা আপনাদের জীবনের সবচেয়ে
মূল্যবান সম্পদ—সন্তানকে
আমাদের কাছে অর্পণ করেন। আমরা শিক্ষকগণ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ
নিয়ে সেই আস্থার প্রতিদান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিদ্যালয় ও অভিভাবকের যৌথ
প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্খিত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। সন্তানের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা,
নিয়ম-শৃঙ্খলা, নৈতিক আচরণ ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ গড়ে তুলতে আপনাদের সহযোগিতা
অপরিহার্য। নিয়মিত বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং শিক্ষার্থীর সার্বিক
অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন—এই প্রত্যাশা
রইল।
প্রিয় সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ,
বিগত বছরের সকল অর্জনের জন্য আপনাদের
নিষ্ঠা ও অবদানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। নতুন শিক্ষানীতি ও কারিকুলাম
বাস্তবায়নে আপনারা যে পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও উদ্ভাবনী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, তা
প্রশংসনীয়। আগামীতেও আধুনিক শিক্ষা দর্শনের আলোকে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক
হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব—এই
অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।
পরিশেষে, নতুন বছর ও নতুন
শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে আমরা অঙ্গীকার করছি—গুণগত
শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর
শিক্ষার সম্প্রসারণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং
শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা
উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার।
নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক সাফল্য,
সুস্থতা ও আলোকিত ভবিষ্যৎ।
মোসাঃ রওশনয়ারা
প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত)
নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।